লো প্রেশার কী?লো প্রেশার এর লক্ষণগুলো কী কী?লো প্রেশার কেন হয়?লো প্রেশার হলে কি করা উচিত হবে?
✓✓✓লো প্রেশার কি?✓✓✓
প্রিয় বন্ধুরা আসুন জেনে নেই লো প্রেশার কি?
আসলে সিস্টোলিক রক্তচাপ ৯০ মিলিমিটার পারদের কম অথবা ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৬০ মিলিমিটার পারদের কম না হলে নিম্ন রক্তচাপ বা 'লো প্রেসার বলা হয়ে থাকে। এর মানে ৯০/৬০ মিলিমিটার পারদ থেকে ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদ পর্যন্ত মাত্রা হলো স্বাভাবিক।
✓✓✓লো প্রেশার এর লক্ষণ গুলো:✓✓✓
বন্ধুরা এবার আমরা জানব লো প্রেসার এর লক্ষণ গুলো কি কি। কোন লক্ষণগুলো দেখলে বুঝবেন যে আপনার লো প্রেসার। আসুন কিছু লক্ষণ জেনে নেই।
কিছু লক্ষণ থেকে আমরা খুব সহজেই লো প্রেসার আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারি। সঠিক সময়ে রোগ চিহ্নিত হলে নিরাময় অনেক সহজ হয়। চলুন এবার লক্ষণগুলো জেনে নেই!
১-পেশাব কমে যাওয়া।
২-বসা থেকে উঠে যখন দাঁড়ায়, হঠাৎ মাথা ঘুরে। এবং ভারসাম্যহীন হয়ে যায়।
৩-মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা অনুভূত হওয়া।
৪- মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
৫- চোখে অন্ধকার বা ঝাপসা দেখতে থাকা।
৫-ঘনঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে থাকা।
৬-খুব বেশী পিপাসা অনুভব হওয়া।
৭-বমি বমি ভাব হওয়া।
৮-শারীরিক বা মানসিক অবসাদ।
৯-হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।
১০-অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদ কম্পন হওয়া।
✓✓✓লো প্রেশার এর কারণগুলো কী কী?✓✓✓
বন্ধুরা, শুধু নির্দিষ্ট একটি কারণে লো প্রেশার হয় না। বরং নানা কারণে এই লো প্রেসার হতে পারে। তাই সবার আগে কারণগুলো আমাদের জানা জরুরী। তাই আসুন কারণ গুলো জেনে নেই।
√√শরীরে পানিশূণ্যতা:
গরমে ঘেমে শরীরে পানিশূণ্যতা দেখা দেয়। এ থেকে অনেকেই এই লো প্রেসারে আক্রান্ত হয়।
√√ সঠিক খাবার না খাওয়া:
আমাদের শরীরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবারের চাহিদা আছে। আর সময়মতো সঠিকভাবে সেই খাবার না খেতে পারলে লো প্রেশার হতে পারে।
√√ অতিরিক্ত পরিশ্রম:
পরিশ্রম সবসময় আমাদের শরীরের সাথে সহনীয় মাত্রায় হতে হবে। আর তা মাত্রাতিরিক্ত হলে লো প্রেশার হতে পারে।
√√দুশ্চিন্তা:
মানসিক অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, ভয় ইত্যাদির কারণেও আমাদের লো প্রেশার হতে পারে। এর কারণ, মনের সাথে শরীরের যোগাযোগ অতি নিবিড়।
√√ অপুষ্টি:
যদি আমাদের শরীরে পুষ্টিজনিত সমস্যা থাকে তাহলে ও প্রেশার লো হয়।
√√অপর্যাপ্ত ঘুম:
অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে ও প্রেশার লো হয়ে যায়। একজন মানুষকে সুস্থ থাকতে হলে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।
√√ ডায়রিয়া:
ডায়রিয়া হলে কিংবা ডায়রিয়ার সময় অত্যাধিক বমি হলে প্রেশার লো হয়ে যায়।
√√ বদহজম:
খাদ্য হজমে রুটি থাকলেও প্রেশার লো হতে পারে।
√√রক্তপাত:
কোথাও কেটে গিয়ে বা অন্য কোন কারণে যদি অতিরিক্ত রক্তপাত ঘটে তাহলে ও প্রেশার লো হয়ে যায়।
√√রক্তশূণ্যতা:
যদি আমাদের শরীরে রক্তশূণ্যতা থাকে তাহলে ও প্রেশার লো হয়।
√√হরমোনের ভারসাম্যহীনতা :
অনেকের শরীরে হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা থাকে। এর ফলেও লো প্রেসার হতে পারে
√√গর্ভাবস্থায়:
গর্ভবতী মা বোনদের, প্রথম ৬ মাসে হরমোনের প্রভাবে লো প্রেশার হয়ে থাকে। পরবর্তী সময় এটি ঠিক হয়ে যায়।
√√ অন্যান্য:
এছাড়াও হার্টের সমস্যা, অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির সমস্যা, শরীরে তাপমাত্রার তারতম্য, গ্যাসট্রিকের সমস্যা, কোন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত থাকা, নার্ভের সমস্যা ইত্যাদি কারণেও প্রেশার লো হয়। বেশ কিছু এমন ওষুধ রয়েছে, যেগুলোর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার কারণেও প্রেশার লো হতে পারে।
✓✓✓লো প্রেশার হলে কি করা উচিত হবে✓✓✓
যদি প্রেশার কমে যায়, তাহলে দুশ্চিন্তা না করে যদি নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করতে পারেন তাহলে দ্রুত এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। চলুন করণীয় বিষয়গুলো জেনে নেই!
√√খাবার স্যালাইন:
প্রেশার কমে গেলে প্রথমেই স্যালাইন খেতে হবে।
শরীরে পানিশূণ্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে প্রেসার যখন কমে যায় তখন শুধু খাবার স্যালাইন খেলেই প্রেসার বেড়ে যায়। খাবার স্যালাইন সবচেয়ে উপকারী ও তাৎক্ষণিক ফলদায়ক। এইজন্য আমরা প্রেসার লো হয়ে গেলে ওর স্যালাইন খেতে পারি।
√√ গ্লুকোজ:
নিম্ন রক্তচাপ হলে আপনি যদি গ্লুকোজ খান,এসময় গ্লুকোজ খেলেও ভালো উপকার পাবেন।
√√লবণ জাতীয় খাবার:
যদি প্রেসার লো হয়ে যায় তাহলে আপনার জন্য,লবণ ও লবণ জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত।
সোডিয়াম রক্তচাপ দ্রুত বৃদ্ধি করে। তাই লবণযুক্ত খাবার খেয়ে আপনি রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারেন। তাছাড়া লবণ পানি পান করতে পারেন। এক গ্লাস পানিতে আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে প্রতিদিন দুই গ্লাস করে পান করুন। তাহলে আপনার প্রেসার অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
√√ দুধ ও ডিম:
যদি আপনার প্রেসার লো হয়ে যায় তাহলে আপনার,দুধ ও ডিম সহ পুষ্টিকর খাবার বেশি খেতে হবে। মুরগীর চেয়ে হাঁসের ডিম এক্ষেত্রে বেশি কার্যকরী।
√√ কফি:
কফি প্রেসার বাড়াতে বেশ কার্যকরী একটি উপাদান। সকালে নাস্তার পর এক কাপ কফি খেলে, প্রেশার টা নরমাল থাকবে। চকলেট ও ক্যাফেইন জাতীয় খাবার ও আপনার লো প্রেশার নিরাময় করে।
√√ কিশমিশ:
কিশমিশ প্রেসারের রোগীদের জন্য খুবই কার্যকারী। এক কাপ পানিতে ৩০/৪০টা কিশমিশ সারারাত ভিজিয়ে রেখে, পরেরদিন খালি পেটে খেতে হবে। কিছুদিন নিয়মিত খেলে লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
√√ মধু ও বাদাম:
প্রেসারের রোগীদের জন্য, মধু ও বাদাম বেশ কার্যকর ভুমিকা পালন করে। মধু দুধে মিশিয়ে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায় এবং কাঠবাদাম ও চিনাবাদাম খেতে পারেন।
√√ পুদিনা পাতা:
আশ্চর্য হলেও সত্য যে, পুদিনা পাতা দ্রুত প্রেশার বাড়ায়। তাই প্রেশার কমে গেলে এই পাতা বেঁটে নিয়ে এর সাথে অল্প মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।
√√ব্যায়াম:
প্রেশার স্বাভাবিক রাখতে ব্যায়াম অনেক কার্যকরী। ব্যায়াম হার্টে রক্ত চলাচল নিয়মিত করে। লো প্রেশার দেখা দিলে খাবার খাওয়ার সাথে সাথে আপনাকে শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে।
√√ তাজা শাক-সবজি:
আপনার নিম্ন রক্তচাপ হলে, এই নিম্ন রক্তচাপ রোধে শাক-সবজি অনেক উপকারী। কারণ এই লো প্রেসার ভিটামিন ও মিনারেল ঘাটতির কারণে ও হতে পারে। ফলিক এসিড ব্লাড প্রেশার বৃদ্ধি করে। তাই শাক সবজি প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে।
√√ পরামর্শ√√
যেসব ওষুধ খেলে রক্তচাপ কমে যায় সেসব ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। এসময় পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। তাছাড়া অনেকক্ষণ শুয়ে বা বসে থাকার পর উঠার সময় অতি সাবধানে বা ধীরে ধীরে উঠতে হবে। এর সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই।
ঘরে বসেই এই সমস্যা থেকে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। উপসর্গ অনুযায়ী এর চিকিৎসার প্রয়োজন পরে। যাদের দীর্ঘমেয়াদি লো প্রেসারের এই সমস্যা রয়েছে তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
.jpeg)
.jpeg)
0 মন্তব্যসমূহ