ফোড়া কি?ফোড়ার লক্ষন গুলো কি কি?ফোড়া হওয়ার কারন কি? ফোরা সারানোর ঘরোয়া উপায় কি?

ফোড়া কি?ফোড়া হওয়ার লক্ষণ কি?ফোড়ার ব্যাথা কমানোর ঘরোয়া উপায় কি?

👉 শরীরে ফোড়া হওয়ার কারণ কি?


অনেক সময়ে, আমাদের ত্বকে এক ধরনের ব্যাকটিরিয়া  জন্ম নিয়ে থাকে।তখন সেই ব্যাকটিরিয়া আমাদের  ত্বকের রোমকূপের ছিদ্র দিয়ে,  শরীরে প্রবেশ করে ইনফেকশন সৃষ্টি  করে।
 এর পর ব্যাকটিরিয়া, শরীরের মৃত কোষ ও ত্বক-কোষ মিশে পুঁজ তৈরি হয়ে।
এবং ব্যথা বাড়তে থাকে। তখন তাকে ফোঁড়া বা বিষফোঁড়া বলা হয়। 

ত্বকের চুলের গোঁড়ায় স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে সাধারণত এই ফোঁড়া হয়ে থাকে।
যার কারনে আমরা অনেক কষ্ট অনুভব করে থাকি।

এছাড়াও পুষ্টির ঘাটতি ও অপরিছন্নতা এবং কোন  কোন রাসায়নিক দ্রবের সংস্পর্শ  করার কারণেইও এই ফোঁড়া হয়ে থাকে।


👉ফোড়া হওয়ার স্থানগুলো কি কি?


সাধারণত মুখে, ঘাড়ে, বগলে, কাঁধে ও নিতম্বে এই ফোঁড়া হয়ে থাকে।

 যে ফোঁড়া চোখের পাতায়  হয়, তাকে আজনি বলে। যখন অনেক গুলো ফোঁড়া একসাথে ওঠে, তখন তাকে carbuncles বলে থাকে। 
এই ফোড়া অনেক বিষধর হয়ে থাকে।


👉ফোড়ার লক্ষণ গুলো কি কি? 


ফোড়া সাধারণত লালচে রঙের হয়ে  থাকে।এবং তাকে স্পর্শ করলে গরম অনুভব  হয় এবং অল্পতেই অনেক ব্যথা লাগে। ফোড়া হলে এর মাথা ফোঁটা আকারে দেখা দেয়। 
অনেক সময় আবার এটা ব্রণের মতোও হয় এবং ফেটে যেতে পারে।

সঠিকভাবে এই ফোড়া কাটা অথবা পরিষ্কার করতে না পারলে এর অবস্থা আরও খারাপ হয়। এমনকি এর সংক্রমণ ত্বকের ভেতরের কোষে এবং রক্তপ্রবাহের মধ্যে ও ছড়িয়ে যেতে পারে।

 ফোড়ার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে জ্বর, বমি বমি ভাব, বমি করা, ব্যথা এবং ত্বক লাল বর্ণ হওয়া ইত্যাদি বেড়ে যেতে পারে।

  👉ফোঁড়া হলে করনীয় কি?


👉 জীবাণুনাশক সাবান দিয়ে খুব ভালো ভাবে আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার করতেহবে ।

 👉 একটি পরিষ্কার কাপড় গরম করার পর তাকে পানিতে ভিজিয়ে, নিংড়ে  নিয়ে হালকাভাবে ফোড়ার ওপর চেপে ধরলে রাখলে, ফোড়াটি আস্তে আস্তে  গলে যেতে পারে।

 👉 জীবাণুনাশক মলম ফোড়ার উপরে  এবং চারপাশে ভালো করে লাগিয়ে নিন।

 👉 জোর করে কখনো নিজে  নিজেই ফোড়া গলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।এতে করে অবস্থা বিপজ্জনক হতে পারে।

  

👉ফোড়া সারানোর ঘরোয়া উপায় কি?


রসুনঃ
 দু’-তিন কোয়া রসুন ভালো করে বেটে ফোঁড়ার ওপর লাগিয়ে দিন। অথবা  এক কোয়া রসুন,  গরম করে ফোঁড়ার ওপর রাখুন। অথবা দিনে দু’-তিন কোয়া রসুন খান ফোঁড়া না সারা পর্যন্ত এ নিয়ম মেনে চলুন।

হলুদ: 
এক গ্লাস দুধ বা জলে এক চা চামচ হলুদ গুঁড়ো ফুটিয়ে দিনে দুই বার করে, পাঁচ দিন পর্যন্ত  খান। অথবা সম পরিমাণ হলুদ ও আদা বেটে ফোঁড়ার উপর লাগিয়ে দিয়ে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখুন।

কালোজিরা: 
কালোজিরা বেটেও আপনার ফোঁড়ায় উপর লাগাতে পারেন। অথবা কালোজিরার তেল লাগান। এক কাপ গরম জলে আধ চা চামচ কালো জিরে মিশিয়ে দিনে দু’বার খান।

গরম সেঁক: 
একটা পরিষ্কার কাপড় নিয়ে, গরম জলে ফুটিয়ে নিন। এই ভেজা গরম কাপড় ফোঁড়ার ওপর ১০ মিনিট চেপে রেখে সেঁক দিন। দিনে তিন থেকে চার বার এটা করুন।





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ