চন্দ্র ও সূর্য গ্রহনের সময় গর্ভবতী মহিলারা কোন কিছু কাটতে বা ছিঁড়তে পারবে কিনা? চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণের সময় করণীয়।
চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের সময়, গর্ভবতী মহিলাদের কাজের ব্যাপারে ইসলাম কি বলে?
চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ নিয়ে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার:
চন্দ্র এবং সূর্যগ্রহণ নিয়ে আমাদের সমাজে বহু কুসংস্কার রয়েছে। যেমন চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ এর সময় কোন কিছু খেতে পারবেনা, এবং ওই সময় তৈরি করা খাবার ফেলে দিতে হবে।
গর্ভবতী মা বোনরা ঐ সময় কোনো কিছু কাটলে, ছিঁড়লে বাচ্চা ঠোঁট কাটা জন্ম নিবে। এবং কিছু ভাঙলে, বাঁকা করলে সন্তান বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেবে।
এধরনের যত রকমের কথা, সমাজে প্রচলিত আছে তা সম্পূর্ণই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা, যার সঙ্গে কোরআন ও সুন্নাহর কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।
চন্দ্র, সূর্য বা অন্য কোনো সৃষ্ট বস্তু, কখনো কারো উপকার বা ক্ষতি সাধন করার ক্ষমতা রাখে এধরনের বিশ্বাস রাখা তাওহিদের পরিপন্থী কাজ।
একজন ঈমানদারের কর্তব্য
যে কোন ব্যক্তি, আল্লাহ তায়ালা ও কিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে তার মনে রাখা উচিত যে, আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে চন্দ্র, সূর্যে গ্রহণও একটি নিদর্শন।
যদি কেউ চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ দেখে, তাহলে তার উচিত হবে, রাসূল (সা.) এর সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করা ও বেশি বেশি করে সে সময় আল্লাহকে স্মরণ করা।
প্রকৃতপক্ষে সূর্য গ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীদের বা কারো জন্যই জাগতিক কোনো কাজ করা বা না করা নিয়ে কোনো রকম নিষেধাজ্ঞ নেই।
এ ব্যাপারে যা প্রচলিত রয়েছে, তা কেবলই কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা ছাড়া আর কিছুই নয় ধরনের কোন নিয়ম। এ ধরনের কোনো নিয়ম মানলে বা বিশ্বাস করলে মারাত্মক ধরনের গুনাহ হবে।
মহান আল্লাহ এই সৃষ্টি চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ তিনার বড় নিদর্শন বলে বিশ্বাস করতে হাদিসে বলা হয়েছে এবং তখন পুরুষদেরকে মসজিদে জামাতের সঙ্গে সালাতুল কুসুফ {সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রে} এবং সালাতুল খুসুফ {চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে} নামাজ পড়ার জন্য বলা হয়েছে। এর বাইরে এতে কোনোরূপ বিধি-নিষেধ নেই।
চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী মহিলা যদি কিছু কাটে তখহলে কি গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়?
অনেক মানুষ এটা মনে করেন, চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণের সময় যদি গর্ভবতী মহিলা কিছু কাটাকাটি করে, তাহলে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়। কানকাটা বা ঠোটকাটা অবস্থায় জন্ম নেয়।
এটি একটি ভুল ধারণা। বাস্তবতার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। শরীয়তে যেমন এর কোনো ভিত্তি নেই,ঠিক তেমনি ভাবে বিবেক-বুদ্ধিও, এ ধরনের অহেতুক ধারণা কে সমর্থন করে না। অতএব এ ধরনের বিশ্বাস পোষণ করা থেকে বিরত থাকা একজন মুসলমানের জন্যে অতীব জরুরি।
.jpeg)
0 মন্তব্যসমূহ