উচ্চ রক্তচাপ কি? উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ গুলো কী কী? উচ্চ রক্তচাপ হলে করণীয় কি?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ। প্রিয় বন্ধুরা, কেমন আছেন? আশা করি সকলেই ভাল আছেন।
আজ আমি আলোচনা করব, কিভাবে আপনার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন, সেই সম্পর্কে।
উচ্চ রক্তচাপ কাকে বলে?
বন্ধুরা প্রথমে আমরা জেনে নেই উচ্চ রক্তচাপ কি?
হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে রক্ত চলাচলের গতি অতি বেশি হলে সেটিকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার হিসেবে আমরা বুঝতে পারি।
দু'টি মানের মাধ্যমে, এই রক্তচাপ রেকর্ড করা হয়ে থাকে। যেটার সংখ্যা বেশি সেটাকে বলা হয় সিস্টোলিক প্রেশার এবং যেটার সংখ্যা কম সেটা ডায়াস্টলিক প্রেশার
উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ গুলো কি কি?
১। মাথা যন্ত্রণা:
বারবার মাথা যন্ত্রণা হওয়া, এটি উচ্চ রক্তচাপের একটি লক্ষণ। বিশেষ করে যদি মাথার পিছনের দিকে ব্যথা হয়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী।
২-নাক থেকে রক্ত পড়া:
সাইনুসাইটিসের মতো রোগ থেকেও নাক থেকে রক্তপাত হতে পারে, তাই অনেকেই অবহেলা করেন এই উপসর্গটিকে। বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বলছেন, উচ্চ রক্তচাপের ফলেও নাক থেকে রক্ত পড়তে পারে।
৩- বুকে ব্যথা:
উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্যন্ত্রের সমস্যাকে ডেকে আনতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা উপেক্ষা করলে বুকে ব্যথা হওয়াও স্বাভাবিক। কাজেই এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলেই অতি তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৪- ক্লান্তি:
অল্পতেই ক্লান্ত লাগা উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম একটি উপসর্গ। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিদিনের সাধারণ কাজের ক্ষেত্রেও ক্লান্তি আসতে পারে।
পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপের কারণে দম ফুরিয়ে আসার মতো অনুভূতি তৈরি হওয়াও স্বাভাবিক।
৫-চোখ ঝাপসা হয়ে আসা:
দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা, চোখের সামনে কাল রঙের বিন্দু দেখতে পাওয়া, হঠাৎ সম্পূর্ণ বা আংশিক ভাবে দৃষ্টিশক্তি লোপ পাওয়াও উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ একটি হতে পারে
উচ্চ রক্তচাপের কারণগুলো কী কী?
প্রিয় বন্ধুরা,৯০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো নির্দিষ্ট কোন কারণ জানা যায় না, একে প্রাইমারি বা অ্যাসেনশিয়াল রক্তচাপ বলে।
সাধারণভাবে বয়ষ্ক মানুষের উচ্চ রক্তচাপ বেশি হয়ে থাকে।তবে কিছু কিছু বিষয় উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা বাড়ায়,যেমন:
১- বংশগত ধারাবাহিকতা আছে:
যদি মা-বাবার উচ্চ রক্তচাপ থাকে,তবে সন্তানেরও এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি নিকটাত্মীয়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও অন্যদের এর ঝুঁকি থাকে।
২-অধিক ওজন:
যথেষ্ট পরিমাণে ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম না করলে শরীরের ওজন বেড়ে যেতে পারে। এতে করেও হৃদযন্ত্রে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। অধিক ওজনসম্পন্ন লোকদের উচ্চ রক্তচাপ বেশি হয়ে থাকে।
৩-ধূমপান:
ধূমপায়ী ব্যক্তির শরীরে তামাকের নানা রকম বিষাক্ত পদার্থের প্রতিক্রিয়ায় উচ্চ রক্তচাপসহ ধমনি, শিরার নানা রকম রোগ ও হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।
৪-অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ:
খাবার লবণে সোডিয়াম থাকে, যা রক্তের জলীয় অংশ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে রক্তের আয়তন ও চাপ বেড়ে যায়।
৫-খাদ্যাভ্যাস:
সঅতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার যেমন- মাংস, মাখন ও ডুবো তেলে ভাজা খাবার খেলে ওজন বাড়ে। ডিমের হলুদ অংশ এবং কলিজা, গুরদা, মগজ এসব খেলেও রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যায়।
রক্তে অনেক বেশি কোলেস্টেরল হলে রক্তনালির দেয়াল মোটা ও শক্ত হয়ে যায়। ফলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
৬-ডায়াবেটিস:
বয়সের সাথে সাথে ডায়াবেটিসের রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। তাছাড়াও তাদের অন্ধ হয়ে যাওয়া ও কিডনির নানা রকম রোগ হতে পারে।
৭-অতিরিক্ত উৎকণ্ঠা:
অতিরিক্ত রাগ, উত্তেজনা, ভীতি এবং মানসিক চাপের কারণেও রক্তচাপ সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। যদি এই মানসিক চাপ চালু থাকে এবং রোগী ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারেন, তাহলে এই উচ্চ রক্তচাপ কিন্তু স্থায়ীভাবেন রূপ নিতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ হলে করণীয় কি
√√স্বাস্থ্যসম্মত সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে।
√√সকাল, দুপুর ও রাত—এই তিন বেলায় বয়স ও প্রয়োজন অনুপাতে
পর্যাপ্ত পরিমাণে সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে।
√√ কোনো বেলার খাবার বাদ দেওয়া যাবে না।
√√ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
√√বেশী পরিমাণে টাটকা ও রঙিন শাকসবজি, দেশীয় ও মৌসুমি ফলমূল খেতে হবে।
√√ খাদ্যতালিকায় মুরগির মাংস ও ছোট–বড় বিভিন্ন রকম মাছ রাখতে হবে।
√√ সপ্তাহে কমপক্ষে এক দিন নিরামিষ ভোজী হওয়া দরকার।
√√রান্না করার সময় অল্প অথবা পরিমাণ মতো লবণ ব্যবহার করতে হবে।
√√ যত টুকু সম্ভব হবে, সোডিয়াম ও অন্যান্য লবণ কম পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে। খাবারের সঙ্গে বা পাতে আলাদান লবণ গ্রহণ ত্যাগ করতে হবে।
√√ খাদ্য সংরক্ষণে লবণের পরিবর্তে ভিনেগার, লেবুর রস, কাঁচা রসুন ও মসলা ব্যবহার করবে।
√√ খাবার কেনার সময় পণ্যের গায়ে সোডিয়ামের পরিমাণ খুব ভালোভাবে পড়ে তুলনামূলক কম সোডিয়ামসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিতে হবে।
√√ মদ পান বা অ্যালকোহল গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
√√ পরিশ্রম করতে হবে, নিজের কাজ নিজেই করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
√√ নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটার জন্য চেষ্টা করতে হবে। দিনে অন্তত ১৫১ মিনিট সাধারণ ব্যায়াম করা উচিত।
√√ লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে।
√√ সম্ভব হলে হেঁটে বা সাইকেল চালিয়ে অফিস এবং নিকটবর্তী গন্তব্য স্থানে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
বন্ধুরা,ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ, একটি দীর্ঘস্থায়ী কনিক অসুখ।
রক্তচাপ যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, হার্ট
অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়তে থাকে।
তবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা যদি সঠিকভাবে তৈরি করা যায়, তাহলে উচ্চ রক্তচাপ একদম নিয়ন্ত্রণে আসবে।
আজ ৩টি খাবার সম্পর্কে আলোচনা করব। যা উচ্চ রক্তচাপের জন্য, আপনাকে প্রতিদিন নিয়মিত খেতে হবে।
এবং এমন ৬টি খাবারের নাম বলবো যা আপনি কখনোই খাবেন না। অথচ আমরা তা বেশি খাচ্ছি।
১-কফি:
প্রথমেই বলছি কফি সম্পর্কে। কফি খেলে সাময়িক সময়ের জন্য রক্তচাপ বেড়ে যায়। তাই তাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে তাদের জন্য কপি খাওয়া একেবারে ই নিষেধ।
কারণ কফি রক্তনালীকে একদম শরু করে দেয়। তাই হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া রক্তচাপের ফলে, স্ট্রোক হতে পারে।
তাই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে, কফি বা অতিরিক্ত চা পান একেবারেই বাদ দিতে হবে।
২-লবন:
উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ হলো শরীরের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত সোডিয়াম জমা হওয়া। আর ওই সোডিয়াম টা লবণ থেকে আসে। বিশেষ করে আমরা যে আয়োডিনযুক্ত বা পরিশোধিত লবন খাচ্ছি, এটাতেও সোডিয়াম এর পরিমাণ অনেক বেশি। তাই লবণ খেতে হবে একেবারে সীমিত পরিমান খেতে হবে।
৩-লাল মাংস:
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে, লাল মাংস অর্থাৎ গরুর ছাগল মহিষ ইত্যাদির গোশত একেবারে বাদ দিতে হবে।
অথবা ১০ দিন ১৫ দিন বাদে আপনি একবার খেতে পারেন। তাও আবার ৭০ গ্রাম থেকে 100 গ্রাম এর বেশি নয়।
কারণ এই লাল মাংস বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টের ধারার পাশাপাশি রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। যার হৃদ রোগ বা স্ট্রোকের কারণ হয়।
৪-চিনি বা চিনি যুক্ত খাবার:
উচ্চ রক্তচাপে চিনিযুক্ত যে কোন খাবার বর্জন করতে হবে।
৫-ডিমের কুসুম ও মুরগির চামড়া:
বিশেষ করে ফার্মের মুরগির চামড়া, ও ডিমের কুসুম খাওয়ার মধ্যে সতর্কতা হলো যে, আপনি যদি প্রতিদিন একটি ডিম কুসুম সহ খান, সে ক্ষেত্রে তেমন কোন সমস্যা নেই।
কিন্তু যদি দিনে তিন থেকে চারটি ডিমের কুসুম খাওয়া হয়ে যায় তাহলে সে ক্ষেত্রে ক্ষতি আছে। এই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রথম ডিম টা কুসুম সহ খাবেন, আর বাকিগুলো শুধু সাদা অংশ খাবেন। যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি থাকে।
৬-আচার এবং সচ্ জাতীয় খাবার:
আচার এবং সচ্ জাতীয় খাবার আমরা খুব পছন্দ করে থাকি। এবং আমরা অনেক সময় পুড়ি, সিঙ্গারা ইত্যাদির সাথে খেয়ে থাকি।
কিন্তু এগুলো উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এইজন্য আমাদের পাঁচ ফুট ও বেকারীর খাবার কম খেতে হবে
রক্তচাপ কমাতে যেই খাবার খাবেন
এবার আমরা রক্তচাপ কমাতে বা নিয়ন্ত্রণ রাখতে ৩টি খাবার সম্পর্কে আলোচনা করব। যেই সাতটি খাবারের মধ্যে এমন উপাদান রয়েছে, যা আপনার উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে আনবে।
উচ্চ রক্তচাপে কি খাবে?
১-জবা ফুলের চা:
জবা ফুলের চা এর মধ্যে এমন ফর্মুলা রয়েছে, যা আপনার উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে। কারণ এই পানীয়টি ব্লাড বেসেল এর কর্ম ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের খারাপ কোলেস্টর মাত্র কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
এর ফলে ব্রেইন ও হার্টের কোন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। যেহেতু চা আমাদের দৈনন্দিন এর অভ্যাস, তাই একবার যদি আপনি জবা ফুলের চা খেতে পারেন, তাহলে আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
জবা ফুলের চা বানানোর নিয়ম:
জবা ফুলের চা বানাতে হলে, দুই কাপ পানির মধ্যে শুধুমাত্র তিনটি জবাব ফুলের পাপড়ি গুলো ছিড়ে পানিতে মিশিয়ে দিন। তারপর তিন থেকে চার মিনিট সেই পানি ফুটিয়ে নিন।
তারপরও সেই ফোটানো পানি ছেকে পান করুন। যদি আপনার ডায়াবেটিস না থাকে তাহলে এর সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।
২-টক দই:
ঘরোয়া ভাবে দুধ দিয়ে বানানো টক দই টা কিন্তু আপনার ব্লাড প্রেসার কে দম নিয়ন্ত্রণ করে ফেলবে, যেটাতে চিনি নেই।
দুপুরে খাবারের পরে ১০০ গ্রাম এই টক দই নিয়মিত খাবেন, তবে এই টক দইয়ের সাথে কোন ধরনের চিনি বা লবণ মেশাতে যাবেন না। কারণ এতে উপকারের থেকে অপকারই বেশি হবে।
৩মেথির পানি:
মেথির পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এজন্য প্রতিদিন রাতে এক কাপ বিশুদ্ধ পানিতে, এক চা চামচ মেথি ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর, এক লিটার উষ্ণ পানি পান করার পর এই মেথি চিবিয়ে খান। এবং সাথে মেথি ভেজানো পানীয় পান করে নিন।
যদি প্রতিদিন আপনি এই মেথি খাওয়ার নিয়ম পালন করতে পারেন, তাহলে আপনার উচ্চ রক্তচাপের প্রবলেম একেবারে নিয়ন্ত্রণে এসে যাবে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকার পাশাপাশি অন্য অনেক রোগ থেকেও আপনি মুক্তি পাবেন ইনশাআল্লাহ।
.jpeg)
0 মন্তব্যসমূহ